সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ড মালিকের গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবী, থানায় মামলা, মূলহোতা গ্রেফতার।
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডে এক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড মালিকের গাড়ির গতিরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে দুর্বৃত্তরা। চাঁদা না পেয়ে ইয়ার্ডের কর্মকর্তাদের মারধর করে। শনিবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আহত এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল হোতা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার তাকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি সাগরপাড়ে অবস্থিত বিওবি রি- সাইক্লিন শীপ ইয়ার্ডের এমডি এসএম নুরুন নবী ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে শিপইয়ার্ড থেকে বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় ৭-৮ জন সন্ত্রাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিমে খুযার পাড়া এলাকায় গাড়ির গতিরোধ করে। তারা জোরপূর্বক এসএম নুরুন নবীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে। এ ঘটনা দেখতে পান গাড়ির পেছনে আসা বিওবি রিসাইক্লিন শিপইয়ার্ডের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন, কোম্পানীর পরিচালক নাজমুল হুদা, ভূমি অফিসার অহিদুর রহমান, ইয়ার্ড ম্যানেজার সাহাবউদ্দিন। এমডিকে দুস্কৃতিরা ঘিরে রেখে অকথ্য গালাগাল করতে দেখে তারা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালায়। দলের নেতৃত্বে থাকা মোঃ জাহাঙ্গীর (৪৬)সহ তার সাথে থাকা ৬-৭ জন লাঠি দিয়ে তাদেরকে এলোপাথারী পিটাতে শুরু করে। কিন্তু তারা মারধর খেয়েও এমডিকে গাড়িতে তুলে সরিয়ে দিলে জাহাঙ্গীর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পিএরও আলমগীরকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে লাঠির আঘাত করে। আঘাত থেকে বাঁচতে তিনি হাত দিলে হাত ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রাতে বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ডের পাবলিক রিলেশন অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সীতাকুন্ড মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চাঁদা দাবী, হত্যা চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাহাঙ্গীরসহ অজ্ঞাত নামা ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে। সে মধ্য সোনাইছড়ি বক্তারপাড়া এজাহার মেম্বার রোড এলাকার বাসিন্দা মুফিজুর রহমানের ছেলে।
মামলার বাদী বিওবি রিসাইক্লার্স শীপইয়ার্ডের পিআরও মোঃ আলমগীর হোসেন বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও তার দলবল চাঁদার দাবীতে আগেও তাদের ইয়ার্ডে গিয়ে নানান ঝামেলা করেছে। সর্বশেষ ৫লাখ টাকার জন্য এমডি স্যারের গাড়ির গতিরোধ করে তাকে নামিয়ে ফেলে। আমরা বাধা দিতে চাইলে আমাদেরও পিটিয়ে জখম করে এবং আমাদের সাথে থাকা টাকাও লুট করে। আমি মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে চালান দিয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ মহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে, আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি।