Uncategorized

সীতাকুণ্ডে অগ্নিদগ্ধ ফাতেমার মৃত্যুকে নিয়ে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন।

নিজস্ব প্রতিনিধি সীতাকুন্ড 

অগ্নিদগ্ধ ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর প্রতিবাদ, পাষণ্ড স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও   সংবাদ সম্মেলন করেছেন  উত্তর বগাচতর এলাকাবাসী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার দুপুর বারোটায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার সামনে মানববন্ধন  ও দুপুর সাড়ে বারোটায়  সীতাকুণ্ড  প্রেসক্লাবে  সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শওকত আলী। জানা যায়,  মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার দক্ষিণ সোনা পাহাড় এলাকার নুরুল আবছারের মেয়ে ফাতেমা আখতারের সাথে  ১০ বছর আগে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের উত্তর বগাচতর এলাকার নুরুল মোস্তফার ছেলে মুসলিম উদ্দিনের  বিবাহ হয়।  বিবাহের পর থেকে তার স্বামী ও শাশুড়ি  দ্বারা শারীরিক, মানসিক  নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন ফাতেমা। অবশেষে সেই নির্যাতনের বলী হয়ে আগুনে দগ্ধ হওয়ার পাঁচদিন পর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৮ জুন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

 এই মৃত্যুর পিছনে ফাতেমার স্বামী মুসলিম উদ্দিন ও তার মা দায়ী। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

১৪ জুন পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্বামী আবারও তাকে মারধর করে। আশপাশের প্রতিবেশীদের তথ্যে আমরা জেনেছি, মারধরের এক পর্যায়ে ফাতেমাকে গৃহবন্দী করে আগুন লাগিয়ে  দেয়  স্বামী  মুসলিম। অগ্নিদগ্ধ  অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরে ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।  

অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ফাতেমার মৃত্যুর পর তার পরিবার সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। 

এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনার বিচার ও প্রতিকার জানিয়ে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নরপশু এমন ঘৃণিত কাজ করার সাহস না পায়। সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর বগা চতর  গ্রামের যুবসমাজ ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসাদ। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button