সীতাকুণ্ডে মাদ্রাসা ও মাজারে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী হযরত খাজা কালুশাহ্ (রহঃ) মসজিদ, মাজার ও মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী । রবিবার সকাল ১১ টায় হযরত খাজা কালু শাহ (রা) মাজার প্রাঙ্গণে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওয়াফ এটাস্টেট সহ-সভাপতি আবু ছালে।
লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহঃ) একজন সুফি সাধক ছিলেন, যিনি সুদূর আরব দেশ ইয়ামেন হতে সামুদ্রিক পথে চট্টগ্রাম সীতাকুন্ড থানার সলিমপুর গ্রামে আগমন করে আস্তানা স্থাপন করেন। তার কেরামত ও অলৌকিকতা দেখে শুনে দূরদূরান্ত হতে প্রচুর লোক তাঁহার মাজার শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসেন এবং ভক্তি শ্রদ্ধা স্বরূপ নজরানা দিয়ে থাকেন। এইরূপ অবস্থায় স্থানীয় জনগনের ঐকান্তিক ইচ্ছায় মাজার শরীফের জায়গাসহ অন্যান্য জায়গা নিয়ে একটি মাজার কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়া হয়। এবং হযরত খাজা কালুশাহ (রহঃ) মসজিদ, মাজার নামে ওয়াকফ এস্টেট মাননীয় ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃক অর্ন্তভুক্ত যার ইসি নম্বর ১৭৭৪৩।
উক্ত মাজার শরীফ সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় জনগন একটি গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করেন। উপজেলা নিবাহী অফিসারকে পদাধিকার বলে সভাপতি অন্তর্ভুক্ত করে মনোনয়নের মাধ্যমে কার্যকরী কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে মাজার শরীফসহ কমপ্লেক্স পরিচালনা করছেন। যাহা প্রতি দুই বৎসর অন্তর নিয়মিতভাবে ওয়াকফ অফিস হইতে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে আসছে।
উক্ত কার্যকরী কমিটির সততা, দক্ষতা ও ন্যায় নিষ্ঠতার ফলে বর্তমানে হযরত খাজা কালুশাহ (রহঃ) মসজিদ, মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং: ১৭৭৪৩) অধীন জামে মসজিদ, সুন্নিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা, হেফজখানা, দাতব্য চিকিৎসালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফোরকানিয়া মাদরাসা, নুরানী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে।
গত ৭ই এপ্রিল ২০২৫ ইংরেজী তারিখে আনুমানিক দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে কথিত মোতাওয়াল্লী দাবীদার খন্দকার শওকত আলী ও খন্দকার মোহাম্মদ আলী গং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে মাজার, মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার কর্মকর্তা কর্মচারীদের হুমকি দমকি দিয়ে জোর পূর্বক অফিস হতে বের করে দিয়ে অফিস ও দান বাক্স ভাংচুর চালায়। মাজার মসজিদ ও এতিমখানার চলমান খরচের জন্য সংরক্ষিত টাকা পয়সা ও দান বাক্সে দানকৃত অর্থ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা লুটপাট করে। শুধু তাই নয়, কথিত সন্ত্রাসীর গডফাদার খন্দকার শওকত আলী ও খন্দকার মোহাম্মদ আলী গং ০৭/০৪/২০২৫ইং তারিখ সোমবার হতে ১২/০৪/২০২৫ ইংরেজী তারিখ পর্যন্ত দীর্ঘ ১ সপ্তাহে মাজার মসজিদ ও এতিমখানার দানকৃত অর্থ, গরু, ছাগল ও মুরগী পর্যন্ত আত্মসাৎ করে। দীর্ঘ এক সপ্তাহে দানকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের খাবার, দৈনিক হাজিরা অনুসারে আত্মসাৎকৃত অর্থ ব্যয় করেছে। যা আমাদের কমপ্লেক্সের ভিডিও ফুটেজে সংরক্ষিত সিসি ক্যামেরায় আছে। দীর্ঘ ১ সপ্তাহে মাজারে আগত ভক্ত, কালুশাহ নগর এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হেনস্তা সহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়েছে।
উক্ত ঘটনায় কালুশাহ নগর এলাকাবাসী, মুসল্লীবৃন্দ, আগত আশেক-ভক্তবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান। উক্ত খন্দকার মোহাম্মদ শওকত আলী ও খন্দকার মোহাম্মদ আলী গংদের সন্ত্রাসী আক্রমণে অতিষ্ট হয়ে, এর প্রতিকার চেয়ে সীতাকুন্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা কামনা করে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী (এফসিএ) কে অবহিত করলে তিনি দখলদার কাজ থেকে উদ্ধার করে কমপ্লেক্স এর মোতাওয়াল্লী আলহাজ্ব সিরাজ-উদ-দৌলা সওদাগরকে পূর্বের ন্যায় যথারীতি দায়িত্ব পালন করার জন্য আহবান জানান, এবং কমপ্লেক্স এর পরবর্তী কার্যক্রমে তিনি সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত ০৮.০৪.২০২৫ইং মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়।