Uncategorized

প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে প্রেসক্লাবে  সংবাদ সম্মেলন

Giri Shaikat Desk 

  সীতাকুণ্ড উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে চলমান প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চেয়ারম্যানদের পলায়ন ও নাগরিক সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ এর আয়জনে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে  সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোঃ সালাউদ্দিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্য সচিব কাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোঃ মুরসালিন,  সীতাকুণ্ড পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ ইউসুফ নিজামী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর এ কে এম শামসুল আলম আজাদ, পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব সালে আহম্মদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল মনসুর,পৌরসভা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের জেরে বহু ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হত্যা, বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় আসামি হয়ে আত্মগোপনে আছেন, কেউ বিদেশে পালিয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে আটক রয়েছেন। সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুন্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ চেয়ারম্যান বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন না। এর ফলে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। জন্ম-মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র, সরকারি ভাতা যাচাই-বাছাইসহ স্থানীয় উন্নয়ন, রাস্তাঘাট মেরামত, ত্রাণ ও ভিজিডি/ভিজিএফ বিতরণসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে জনগণ খালি তালা ঝুলতে দেখে ফিরে আসছে। বিশেষ করে গরিব, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ইউনিয়ন পরিষদগুলোর অচলাবস্থা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়— পলাতক ও বন্দি চেয়ারম্যানদের স্থলে অস্থায়ী প্রশাসক/প্রতিনিধি নিয়োগ, বিশেষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিয়ে জরুরি সেবা সচল রাখা, বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আদালতের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ন্যূনতম সেবা চালুর আইনগত সমাধান, পালিয়ে যাওয়া চেয়ারম্যানদের তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, এবং দ্রুত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলো সচল করা।

 ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকায় এলাকার অসংখ্য মানুষ নানা সরকারি সুবিধা ও সেবার জন্য দিনের পর দিন ছুটে গিয়ে ফিরে আসছেন হতাশ হয়ে, ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন নবায়ন করার জন্য দীর্ঘদিন পর্যন্ত চেষ্টা করছেন, কিন্তু কেউ দায়িত্বে না থাকার কারণে নবায়ন হচ্ছে না। আমরা জনগণের ন্যায্য সেবা চাই। ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে জনগণের কল্যাণে দ্রুত সচল করার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের সুদৃষ্টি ও জরুরি পদক্ষেপ কামনা করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button