সীতাকুণ্ডে জামায়াতের শহীদদের হত্যা মামলায় আসামীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন,

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বুধবার বিকাল পাঁচটায় পৌর সদরের রাজবাড়ী রেস্তোরায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াত-শিবিরের নিহত কর্মীদের হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মামলাগুলো থেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর মো. তাহের। এতে আরো বক্তব্য রাখেন,উপজেলা সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলি, উত্তর জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক জসিমউদ্দীন আজাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মেজবাউল আলম রাসেল, মিডিয়া বিভাগের প্রধান আবুল হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সীতাকুণ্ড থানাধীন বিভিন্ন সময়ে নিহত ১১ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে স্মরণ করা হয়। তালিকায় মো. রাসেল, মো. ওসমান, আমিনুল ইসলাম আমিন, আব্দুল্লাহ আল রাসেল বাবু, আলমগীর হোসেন, সাকিফুল ইসলাম রাসেল, মো. শাহায়াত উল্লাহ ভূঁইয়া, মো. শাহজাহান, মো. মোশারফ হোসাইন, আবু বকর ছিদ্দিক পারভেজ ও রেজাউল হায়াত রোমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্ত ও কার্যক্রম বিভিন্নভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কিছু মামলায় এজাহার থেকে আসামির নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।ফ্যাসিস্ট আমলে যেসব জামায়াত-শিবিরের কর্মীকে শহীদ করা হয়েছে মামলা হলেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দোষীরা মিলে মামলাগুলো ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে। অর্থের বিনিময়ে এজাহার থেকে আসামি বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় ছাত্রশিবিরের একজন কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কর্মীকে কেন মামলায় আসামি করা হলো? তারা ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ আরও জটিল হতে পারে। একই সচল পুলিশ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে মামলাগুলো আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করলে তারা তা মেনে নেবেন। তবে সুষ্ঠু তদন্ত না করে কোনো মামলায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি বা রাজনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখা রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা করবে বলে তারা ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শহীদদের হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত, চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার বাদী-আইনজীবী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।